ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁকা নারীদের ‘পিংক বাস’, যাত্রীদের আগ্রহ সাধারণ গণপরিবহনে

নিজস্ব সংবাদ :

ফাঁকা নারীদের ‘পিংক বাস’, যাত্রীদের আগ্রহ সাধারণ গণপরিবহনে

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করেছে। তবে চালুর পরদিনই এসব বাসে যাত্রীর সংকট দেখা গেছে। অধিকাংশ আসন ফাঁকা রেখেই চলতে দেখা গেছে বিশেষায়িত বাসগুলোকে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায়, মহিলা বাস সার্ভিসে হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী থাকলেও সাধারণ গণপরিবহনে নারীদের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। এমনকি অফিসগামী অনেক নারীকে সাধারণ বাসের গেট ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেও দেখা গেছে।

সকাল ৯টার পর শ্যামলী বাস পয়েন্ট অতিক্রম করে মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছিল একটি মহিলা বাস। বাইরে থেকে দেখা যায়, বাসটির দোতলার প্রায় সব আসনই ফাঁকা। নিচতলায় ছিলেন মাত্র চার-পাঁচজন নারী যাত্রী।

শ্যামলী থেকে বাসটির পিছু নিয়ে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে সংসদ ভবন পর্যন্ত যায়। এ সময় নতুন কোনো যাত্রীকে বাসটিতে উঠতে বা নামতে দেখা যায়নি। যাত্রী সংকটের কারণে বাসটি কোনো স্টপেজে না থামায় চালক বা সহকারীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নারী যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেলেও নির্দিষ্ট করে মহিলা বাসের জন্য অপেক্ষা করার আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতিদিনের মতো সাধারণ লোকাল বাসেই উঠতে দেখা গেছে বেশির ভাগ নারীকে। এমনকি যাত্রীচাপের কারণে নারী-পুরুষ উভয়ের চলাচল করা বিআরটিসি বাসের গেট ধরে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতেও দেখা গেছে নারীদের।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো মহিলা বাস সার্ভিসের দেখা মেলেনি। সেখানে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ নারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও বিশেষ বাসটির প্রতি আগ্রহের তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফার্মগেটে অপেক্ষমাণ আসমা আক্তার বলেন, ‘মহিলা বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, বিষয়টি এমন নয়। প্রতিদিনের মতো অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। যে বাস আগে আসবে, সেটিতেই উঠব। শুধু মহিলা বাসের অপেক্ষায় থাকলে কখন আসবে, কখন অফিসে পৌঁছাব— তা নিশ্চিত নয়।’

আরেক যাত্রী সোনালী খাতুন বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময় মহিলা বাসের দেখা পাননি। তাঁর মতে, উদ্যোগটি ভালো হলেও বাসের সংখ্যা কম থাকায় অফিস সময়ে শুধু এ বাসের ওপর নির্ভর করা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘সরকার মাত্র সেবাটি চালু করেছে। ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা বাড়বে আশা করি। তবে এখন বাস কম থাকায় কখন একটি বাস আসবে, তা নিশ্চিত নয়। সরকারের উচিত বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০১:৪২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

ফাঁকা নারীদের ‘পিংক বাস’, যাত্রীদের আগ্রহ সাধারণ গণপরিবহনে

আপডেট সময় ০১:৪২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করেছে। তবে চালুর পরদিনই এসব বাসে যাত্রীর সংকট দেখা গেছে। অধিকাংশ আসন ফাঁকা রেখেই চলতে দেখা গেছে বিশেষায়িত বাসগুলোকে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায়, মহিলা বাস সার্ভিসে হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী থাকলেও সাধারণ গণপরিবহনে নারীদের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। এমনকি অফিসগামী অনেক নারীকে সাধারণ বাসের গেট ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেও দেখা গেছে।

সকাল ৯টার পর শ্যামলী বাস পয়েন্ট অতিক্রম করে মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছিল একটি মহিলা বাস। বাইরে থেকে দেখা যায়, বাসটির দোতলার প্রায় সব আসনই ফাঁকা। নিচতলায় ছিলেন মাত্র চার-পাঁচজন নারী যাত্রী।

শ্যামলী থেকে বাসটির পিছু নিয়ে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে সংসদ ভবন পর্যন্ত যায়। এ সময় নতুন কোনো যাত্রীকে বাসটিতে উঠতে বা নামতে দেখা যায়নি। যাত্রী সংকটের কারণে বাসটি কোনো স্টপেজে না থামায় চালক বা সহকারীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নারী যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেলেও নির্দিষ্ট করে মহিলা বাসের জন্য অপেক্ষা করার আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতিদিনের মতো সাধারণ লোকাল বাসেই উঠতে দেখা গেছে বেশির ভাগ নারীকে। এমনকি যাত্রীচাপের কারণে নারী-পুরুষ উভয়ের চলাচল করা বিআরটিসি বাসের গেট ধরে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতেও দেখা গেছে নারীদের।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো মহিলা বাস সার্ভিসের দেখা মেলেনি। সেখানে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ নারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও বিশেষ বাসটির প্রতি আগ্রহের তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফার্মগেটে অপেক্ষমাণ আসমা আক্তার বলেন, ‘মহিলা বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, বিষয়টি এমন নয়। প্রতিদিনের মতো অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। যে বাস আগে আসবে, সেটিতেই উঠব। শুধু মহিলা বাসের অপেক্ষায় থাকলে কখন আসবে, কখন অফিসে পৌঁছাব— তা নিশ্চিত নয়।’

আরেক যাত্রী সোনালী খাতুন বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময় মহিলা বাসের দেখা পাননি। তাঁর মতে, উদ্যোগটি ভালো হলেও বাসের সংখ্যা কম থাকায় অফিস সময়ে শুধু এ বাসের ওপর নির্ভর করা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘সরকার মাত্র সেবাটি চালু করেছে। ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা বাড়বে আশা করি। তবে এখন বাস কম থাকায় কখন একটি বাস আসবে, তা নিশ্চিত নয়। সরকারের উচিত বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।