ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

নিজস্ব সংবাদ :

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে ব্রাজিলের হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।

ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেইমারের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ব্রেকিং: নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।

একই পোস্টে নেইমারের আবেগঘন বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম, আমি সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।

২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেকের পর টানা প্রায় দেড় দশক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন নেইমার। এই সময়ে তিনি চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেন। বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন।

অলিম্পিক ফুটবলেও ছিল তার উজ্জ্বল অবদান। ২০১২ সালের অলিম্পিকে ব্রাজিলকে রৌপ্য পদক এনে দেওয়ার পর ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে দেশকে প্রথমবারের মতো ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতান নেইমার।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের হয়ে ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রেকর্ড ৮০টি গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি নেইমার। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেন এবং শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নিজের একমাত্র গোলটি করেন।

তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নেইমারের বিদায়ী ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে।

নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে থাকা এই তারকা রেখে গেলেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, রেকর্ড এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১২:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

আপডেট সময় ১২:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে ব্রাজিলের হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।

ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেইমারের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ব্রেকিং: নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।

একই পোস্টে নেইমারের আবেগঘন বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম, আমি সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।

২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেকের পর টানা প্রায় দেড় দশক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন নেইমার। এই সময়ে তিনি চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেন। বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন।

অলিম্পিক ফুটবলেও ছিল তার উজ্জ্বল অবদান। ২০১২ সালের অলিম্পিকে ব্রাজিলকে রৌপ্য পদক এনে দেওয়ার পর ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে দেশকে প্রথমবারের মতো ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতান নেইমার।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের হয়ে ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রেকর্ড ৮০টি গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি নেইমার। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেন এবং শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নিজের একমাত্র গোলটি করেন।

তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নেইমারের বিদায়ী ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে।

নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে থাকা এই তারকা রেখে গেলেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, রেকর্ড এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসা।