ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে খাল পুনঃখননে কৃষিতে ফিরছে প্রাণ, বইছে পরিবর্তনের হাওয়া

নিজস্ব সংবাদ :

সিলেটে খাল পুনঃখননে কৃষিতে ফিরছে প্রাণ বইছে, পরিবর্তনের হাওয়া

 

সিলেটের হাওর ও সমতলে কৃষির চিরায়ত দৃশ্যপটে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের হাহাকার- এই দুই অভিশাপ থেকে মুক্তির এক মহাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এই জনপদে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প যেন মৃতপ্রায় সিলেটের কৃষিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কেবল ফসলের মাঠই সবুজ হবে না, বরং বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতির পুরো মানচিত্র।

বিএডিসি ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় বিএডিসি ৩২৫ কিলোমিটার এবং পাউবো ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দায়িত্ব পালন করছে।

বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রনজিত কুমার দেব জানান, তাদের ৩২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো সচল হলে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে।

অন্যদিকে, নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।

আরও পড়ুন

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভুজপুরে পানির নিচে সড়ক

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, কেবল খাল খননেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ নয়। খালের দুপাড়ে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষকের ফসল পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এক সময় যেখানে মাথার বোঝা হয়ে ফসল বাজারে নিতে হতো, সেখানে এখন চলবে যান। এমনকি বর্ষায় এই খালগুলো ব্যবহার করে নৌকাযোগে স্বল্প খরচে ফসল আনা-নেওয়া করা যাবে। এছাড়া খালের পাড়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমি আবাদের আওতায় আসবে, যা স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

প্রকল্পের সুফল নিয়ে পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে কেবল ধানের উৎপাদনই বাড়বে না, বরং মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য তৈরি হবে। এতে আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পের সুফল ভোগকারী কৃষকদের চোখে-মুখে এখন উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন। গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খাল খনন হলে আমাদের জমি আর খালি পড়ে থাকবে না। বর্ষায় পানি নামবে, আর খরায় সেচ পাবো।

সিলেট সদর উপজেলার কৃষাণী সালমা বেগমও উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, খালের পাড়ে সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে খাল পুনঃখননে কৃষিতে ফিরছে প্রাণ, বইছে পরিবর্তনের হাওয়া

আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

 

সিলেটের হাওর ও সমতলে কৃষির চিরায়ত দৃশ্যপটে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের হাহাকার- এই দুই অভিশাপ থেকে মুক্তির এক মহাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এই জনপদে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প যেন মৃতপ্রায় সিলেটের কৃষিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কেবল ফসলের মাঠই সবুজ হবে না, বরং বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতির পুরো মানচিত্র।

বিএডিসি ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় বিএডিসি ৩২৫ কিলোমিটার এবং পাউবো ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দায়িত্ব পালন করছে।

বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রনজিত কুমার দেব জানান, তাদের ৩২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো সচল হলে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে।

অন্যদিকে, নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।

আরও পড়ুন

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভুজপুরে পানির নিচে সড়ক

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, কেবল খাল খননেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ নয়। খালের দুপাড়ে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষকের ফসল পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এক সময় যেখানে মাথার বোঝা হয়ে ফসল বাজারে নিতে হতো, সেখানে এখন চলবে যান। এমনকি বর্ষায় এই খালগুলো ব্যবহার করে নৌকাযোগে স্বল্প খরচে ফসল আনা-নেওয়া করা যাবে। এছাড়া খালের পাড়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমি আবাদের আওতায় আসবে, যা স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

প্রকল্পের সুফল নিয়ে পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে কেবল ধানের উৎপাদনই বাড়বে না, বরং মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য তৈরি হবে। এতে আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পের সুফল ভোগকারী কৃষকদের চোখে-মুখে এখন উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন। গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খাল খনন হলে আমাদের জমি আর খালি পড়ে থাকবে না। বর্ষায় পানি নামবে, আর খরায় সেচ পাবো।

সিলেট সদর উপজেলার কৃষাণী সালমা বেগমও উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, খালের পাড়ে সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছি।