হাদি হত্যার ২ আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজন আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে ভারত। আজ বুধবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একান্তে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব দ্রুতই এই আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের প্রতি পুনরায় জোরালো অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পক্ষ।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও উভয় পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার ঝুলে থাকা অনেকগুলো বিষয়ের জট খুলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।
আলোচনার একপর্যায়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশ্বাস দেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা আরও সহজতর করা হবে।
এ ছাড়া সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান। তিনি ভারত থেকে ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানোর অনুরোধ করলে মন্ত্রী হারদীপ পুরী তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দেন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মরিশাসের উদ্দেশ্যে দিল্লি ত্যাগ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।




















