সিলেটে আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপির মন্ত্রিসভা
বিভাগের ১৯ আসনের ১৮টি বিএনপিকে উপহার দিয়েছে সিলেটের মানুষ। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুঃসময়ে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী সিলেটিরা তাদের ‘সিলেটের দামানকে’ আগলে রেখেছেন।
দেশের উত্তর-পূর্বের জনপদ সিলেট স্বাধীনতার পর থেকেই উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে মনে করে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিগত মন্ত্রিসভাগুলোর প্রায় প্রতিটিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন সিলেটের মন্ত্রীরা।
তার পরও বৈষম্য রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এবার সেটি ঘুচবে বলে বিশ্বাস তাদের। এ কারণে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভায় চোখ সিলেটবাসীর। মন্ত্রিসভায় সিলেটের কে কে থাকতে পারেন, কতজন জায়গা পাবেন—এসব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচনায়, আড্ডায়।
এদিকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ট্রেন্ড। অনেকে রীতিমতো জরিপও শুরু করেছেন। এসবের মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন সিলেট-১ আসনে বিজয়ী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপি নেতা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক আলোচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন মিলন ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান।
দলের বাইরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে। টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে দুজনের নাম। তাদের মধ্যে বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীরের নাম বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তিনি সিলেট-২ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে দল তাহসিনা রুশদীর লুনাকে মনোনয়ন দেওয়ায় সরে দাঁড়ান তিনি।
এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হকের নামও শোনা যাচ্ছে টেকনোক্র্যাট কোটায়। তাঁদের ভেতর থেকে কেউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থান পাবেন বলে প্রত্যাশা সিলেটবাসীর।
এদিকে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে সিলেট বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
যারা দলের হাইকমান্ডে আলোচনায় রয়েছেন তাঁদের মধ্যে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, আরিফুল হক চৌধুরী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, রেজা কিবরিয়া অর্থ বা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুককে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনাও করছেন কেউ কেউ।
টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের নাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।
সিলেটে সক্রিয় নাগরিক প্লাটফর্ম সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় সিলেটের প্রতিনিধিত্ব থাকুক সিলেটেবাসীর এ চাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে মন্ত্রিসভায় সিলেটের কতজন স্থান পাবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ অতীতে সিলেট থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয় হচ্ছে, সিলেটের নাগরিকরা দীর্ঘদিন থেকে যেসব ভোগান্তিতে নাজেহাল হচ্ছে, সেসব সমস্যার সমাধান করার মতো ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হোক। যদিও মন্ত্রীর পদ কোনো আঞ্চলিক দায়িত্ব পালনের জন্য নয়। তার পরও কোনো এলাকা থেকে কেউ মন্ত্রী মনোনীত হলে ওই এলাকা সম্পর্কে উনার সম্যক ধারণা থাকে, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।’




















