দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা
পাহাড়ের পাদদেশে নদী, পাথরঘেরা জলধারা, সবুজ চা-বাগান আর জলাবনের নীরবতা প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য দেখতে দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটে যেতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা। পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে কয়েক দিনের অবকাশ কাটানোর জন্য দেশের অন্যতম এই পর্যটন অঞ্চলে রয়েছে একাধিক আকর্ষণীয় গন্তব্য। জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, রাতারগুল ও লালাখালের পাশাপাশি সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোও ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যটকের সম্ভাব্য চাপ সামলাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনও। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে আবাসন, পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য সেবার চাহিদা বাড়বে।
হোটেল গোল্ডেন সিটির জেনারেল ম্যানেজার মিষ্ঠু দত্ত বলেন, ‘‘পূজার ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলো। জেলার ৫০০ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের বেশির ভাগ কক্ষ ইতিমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে।’’
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘‘পর্যটকদের আগমনে বাড়তি লাভের পাশাপাশি জেলার অর্থনীতি আরও চাঙা হবে। পূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সিলেটের পর্যটন খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। এটি আমরা যারা ব্যবসায়ীরা রয়েছি তাদের প্রত্যাশিত হিসাব।’’
এদিকে, সিলেট ভ্রমণের পরিকল্পনায় অনেকের প্রথম পছন্দ জাফলং। গোয়াইনঘাট উপজেলার এই পর্যটনকেন্দ্রে পিয়াইন নদী, পাথরঘেরা জলধারা এবং ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয়েছে স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য। নদীর তীরে সময় কাটানো, নৌকায় ঘোরা ও পাহাড়ের পটভূমিতে ছবি তোলার জন্য পর্যটকেরা এখানে যান।
ছুটির দিনে জাফলংয়ে ভিড় বাড়তে পারে। তাই দিনের শুরুতে রওনা দিলে কিছুটা স্বস্তিতে ঘোরার সুযোগ মিলতে পারে। নদীতে নামার আগে পানির গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। পাথরের ওপর চলাচলের সময়ও সতর্ক থাকতে হবে।
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আরেকটি জনপ্রিয় গন্তব্য। ধলাই নদীর পাথরঘেরা বিস্তৃতি, স্বচ্ছ জল ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। নৌভ্রমণ ও নদীর তীর ঘুরে দেখার পাশাপাশি ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে।
তবে নদীর স্রোত ও পানির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ করা প্রয়োজন। নৌকায় উঠলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাথর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ না করে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকারও প্রয়োজন রয়েছে।
গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দিতে পাহাড়, নদী ও পাথরের সমন্বিত দৃশ্য দেখা যায়। অন্যদিকে জৈন্তাপুরের লালাখাল পরিচিত নদীর নীলাভ-সবুজ জল ও দুই পাশের পাহাড়ি পরিবেশের জন্য। দুই জায়গাতেই নৌভ্রমণ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
এছাড়া প্রকৃতির নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন যারা, তাদের জন্য রাতারগুল জলাবন হতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য। গাছের ছায়ায় জলপথ ধরে নৌকায় চলা, চারপাশের সবুজ এবং পানির ওপর আলোর প্রতিফলন এ জায়গার বিশেষ আকর্ষণ। পানির স্তর ও আবহাওয়ার ওপর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নির্ভর করে। তাই নৌভ্রমণের আগে স্থানীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
তাছাড়া দূরের পর্যটনকেন্দ্রে না গিয়েও সিলেট নগর ও আশপাশে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার, সুরমা নদীর তীর এবং লাক্কাতুরা ও মালনীছড়া চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়। নগরের বিভিন্ন খাবারের দোকানে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যাবেন, তারা যাতায়াতের সময়, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের সুবিধা এবং বিশ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারেন। চা-বাগানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা উচিত।




















