ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বিশ্বকাপ থেকে ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত আয়ের খবর ফাঁসে ফিফায় তোলপাড় আইনশৃঙ্খলা সভায় আ.লীগ নেতার উপস্থিতি, ছাত্র-জনতার নিন্দা ফেঞ্চুগঞ্জে জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না জাল, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত, প্রেসিডেন্ট মকিস মনসুর-সেক্রেটারী আসরাফ মিয়া ‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন’: ওমর সানী বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১৮টি কোচের চালান পাঠাল ভারত দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে পতিত সরকারের দোসররা: রিজভী ভারতের গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে শিশুসহ অন্তত ১৩ জনের ৪০০ পরিবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় সেই যুবক আটক, পুলিশ প্রত্যাহার

ফেঞ্চুগঞ্জে জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না জাল, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

ফেঞ্চুগঞ্জে জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না জাল, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় হাকালুকির হাওয়ারের জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না বোমা ও ম্যাজিক জাল পেতে মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রহস্যজনক ভূমিকার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘হাকালুকির মৎস্য সম্পদ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি আব্দুল বাছিত (রিমন)।

​অভিযোগের বিবরণ: জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইতিকর, বাগমারা ও ছত্রিশ গ্রামসহ আশপাশের মৎস্যজীবীরা এতদিন সনাতন পদ্ধতিতে ছোট জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ১নং বিবাদী আব্দুল হক (যিনি কূখ্যাত ডাকাত এবং যার বিরুদ্ধে সারা দেশে খুন ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০০টি মামলা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে), তার সহযোগী সুফিয়ান ও মাসুক মিয়াসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মিলে হাকালুকির জিরো পয়েন্ট থেকে জুড়ি নদীর বাগমারা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩০০-এর অধিক অবৈধ চায়না বোমা জাল, চায়না ম্যাজিক জাল ও চায়না চুন্দা জাল পেতে রেখে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরব থেকে আমদানীকৃত প্রায় ৩০০টিরও বেশি এই অবৈধ জাল জুড়ি নদীর প্রবেশমুখে পেতে রাখা হয়েছে। এই জালের কারণে নদীর তলদেশ দিয়ে মাছ, কাঁকড়া, সাপ ও বিচ্ছুসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের বংশ বিস্তার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ: স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে গত ০৬/১০/২০২৬ তারিখে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে যে, মৎস্য কর্মকর্তা উক্ত বিবাদীদের নিকট থেকে ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা উৎকোচ নিয়ে বিষয়টি রফাফা করে ফেলেছেন এবং তাদের মাছ শিকারের অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে বিবাদীরা প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবী সমাজে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই অব্যাহত অবৈধ মৎস্য নিধনের ফলে ফেঞ্চুগঞ্জবাসীসহ পুরো সিলেট অঞ্চল সারা বছর মাছ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। হাকালুকি হাওয়ারের মৎস্য সম্পদ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জুড়ি নদী থেকে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার ও ধ্বংস করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলবাসীর পক্ষ থেকে আরও কঠোর আন্দোলন ও পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:৪০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
৭ বার পড়া হয়েছে

ফেঞ্চুগঞ্জে জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না জাল, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় হাকালুকির হাওয়ারের জুড়ি নদীতে অবৈধ চায়না বোমা ও ম্যাজিক জাল পেতে মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রহস্যজনক ভূমিকার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘হাকালুকির মৎস্য সম্পদ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি আব্দুল বাছিত (রিমন)।

​অভিযোগের বিবরণ: জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইতিকর, বাগমারা ও ছত্রিশ গ্রামসহ আশপাশের মৎস্যজীবীরা এতদিন সনাতন পদ্ধতিতে ছোট জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ১নং বিবাদী আব্দুল হক (যিনি কূখ্যাত ডাকাত এবং যার বিরুদ্ধে সারা দেশে খুন ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০০টি মামলা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে), তার সহযোগী সুফিয়ান ও মাসুক মিয়াসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মিলে হাকালুকির জিরো পয়েন্ট থেকে জুড়ি নদীর বাগমারা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩০০-এর অধিক অবৈধ চায়না বোমা জাল, চায়না ম্যাজিক জাল ও চায়না চুন্দা জাল পেতে রেখে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরব থেকে আমদানীকৃত প্রায় ৩০০টিরও বেশি এই অবৈধ জাল জুড়ি নদীর প্রবেশমুখে পেতে রাখা হয়েছে। এই জালের কারণে নদীর তলদেশ দিয়ে মাছ, কাঁকড়া, সাপ ও বিচ্ছুসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের বংশ বিস্তার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ: স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে গত ০৬/১০/২০২৬ তারিখে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে যে, মৎস্য কর্মকর্তা উক্ত বিবাদীদের নিকট থেকে ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা উৎকোচ নিয়ে বিষয়টি রফাফা করে ফেলেছেন এবং তাদের মাছ শিকারের অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে বিবাদীরা প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবী সমাজে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই অব্যাহত অবৈধ মৎস্য নিধনের ফলে ফেঞ্চুগঞ্জবাসীসহ পুরো সিলেট অঞ্চল সারা বছর মাছ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। হাকালুকি হাওয়ারের মৎস্য সম্পদ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জুড়ি নদী থেকে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার ও ধ্বংস করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলবাসীর পক্ষ থেকে আরও কঠোর আন্দোলন ও পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।