ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনে শিকার, দেশে ফেরার আকুতি হবিগঞ্জের রেহেনার

নিজস্ব সংবাদ :

সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনে শিকার, দেশে ফেরার আকুতি হবিগঞ্জের রেহেনার

সৌদি আরবের জেদ্দায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের রেহেনা খাতুন। শনিবার গোপনে নিজের অবস্থানের ভিডিও ও লোকেশন পাঠিয়ে দেশে ফিরতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছি। আমাকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অসুস্থ। মনে হয় বাঁচব না। আমাকে বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।’ সরকারের কাছে তাঁকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন রেহেনা।

রেহেনা খাতুন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের আলী আহমদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে। নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে তাঁর স্বামী আলী আহমদ ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে আনিয়ে দেব। সৌদি আরব গেলেই তো আর আসা যায় না।’

রেহেনাকে উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা খোঁজখবর নেব এবং উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৫৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ বার পড়া হয়েছে

সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনে শিকার, দেশে ফেরার আকুতি হবিগঞ্জের রেহেনার

আপডেট সময় ০৭:৫৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের জেদ্দায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের রেহেনা খাতুন। শনিবার গোপনে নিজের অবস্থানের ভিডিও ও লোকেশন পাঠিয়ে দেশে ফিরতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছি। আমাকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অসুস্থ। মনে হয় বাঁচব না। আমাকে বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।’ সরকারের কাছে তাঁকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন রেহেনা।

রেহেনা খাতুন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের আলী আহমদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে। নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে তাঁর স্বামী আলী আহমদ ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে আনিয়ে দেব। সৌদি আরব গেলেই তো আর আসা যায় না।’

রেহেনাকে উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা খোঁজখবর নেব এবং উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’