সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ রেগে গেলেন মেসি!
ক্লাবের জন্য শিরোপা জয়ের আনন্দ। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন, হাতে ট্রফি- সবকিছুই ছিল উৎসবমুখর। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেই হঠাৎ দেখা গেল লিওনেল মেসির অন্য এক রূপ। ইন্টার মিয়ামির ২-০ গোলের জয়ে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে ক্যাম্পিওনেস কাপ জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন তারকাকে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) কমিশনার ডন গারবারের সঙ্গে দুই দফা তার বাক্যবিনিময় হয়, যেখানে মেসিকে দৃশ্যতই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল।
ক্যাম্পিওনেস কাপের শিরোপা জয়ের পর ট্রফি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি। সেই সময় তার কাছে আসেন এমএলএস কমিশনার ডন গারবার। তিনি মেসিকে কিছু একটা বলেছিলেন। ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে গারবারের কথার জবাবে মেসি দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলেন। এরপরও ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি।
কিছুক্ষণ পর সতীর্থদের সঙ্গে ট্রফি হাতে মঞ্চে ছবি তোলা শেষ করে নিচে নামছিলেন মেসি। তখন আবার গারবারের মুখোমুখি হন তিনি। এবার মনে হচ্ছিল, আগের কথোপকথনে যা বলা হয়নি, সেটিই যেন পরিষ্কার করতে চাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা। দূর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে মেসিকে গারবারের সঙ্গে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। তার বলা কথাগুলো পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, ‘নট উইথ মি’- অর্থাৎ ‘আমার সঙ্গে নয়’- জাতীয় কিছু শব্দ বলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় মেসির শরীরী ভাষাতেও অসন্তোষের ছাপ ছিল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি গারবারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পিওনেস কাপের শিরোপা উদযাপনের মাঝখানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা তাই দ্রুতই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে মেসি ও গারবারের মধ্যে টানাপোড়েনের সম্ভাব্য একটি পুরোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেটি হলো ২০২৫ সালের এমএলএস অল-স্টার ম্যাচ।
২০২৫ সালে অল-স্টার ম্যাচে অংশ নেননি মেসি। ওই সিদ্ধান্তের পেছনে তার শারীরিক চাপকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ইন্টার মিয়ামির হয়ে তিনি ৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন। সামনে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক ম্যাচ থাকায় নিজের শারীরিক অবস্থা ঠিক রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় লিগের অনুমতি ছাড়া অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নিলে পরের ক্লাব ম্যাচে খেলার যোগ্যতা হারান। সেই নিয়মেই মেসিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল এমএলএস।
তৎকালীন এক বিবৃতিতে লিগ জানিয়েছিল, পূর্বানুমতি ছাড়া অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নেওয়া কোনো খেলোয়াড় তার ক্লাবের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না। মেসির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করা হয়।
সেই সময়ের বিতর্কে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন ডন গারবার। এমএলএস কমিশনার বলেছিলেন, লিগের এই নীতি বহুদিন ধরে চলে আসছে এবং সেটি প্রয়োগ করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। মেসিকে ঘিরে সিদ্ধান্তটি যে সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছিলেন গারবার।
গারবার প্রায় ২৫ বছর ধরে এমএলএস কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি পদ ছাড়বেন। তার দীর্ঘ মেয়াদের শেষ পর্যায়ে মেসির সঙ্গে এই দৃশ্য নতুন করে সেই পুরোনো সম্পর্কের প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে এসেছে।
ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেসির আগমন এমএলএসে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আর্জেন্টাইন তারকা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে দর্শক, বাণিজ্যিক আগ্রহ ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তার উপস্থিতিতে ইন্টার মিয়ামির ম্যাচগুলোও বিশ্বজুড়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। ফলে মেসিকে ঘিরে লিগের সিদ্ধান্ত বা কোনো বিতর্কই সাধারণত অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় বেশি আলোচনায় আসে।
ক্যাম্পিওনেস কাপের রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জয়ের আনন্দের মধ্যেই গারবারের সঙ্গে মেসির দুই দফা কথোপকথন ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। যদিও তাদের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে কথা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে মেসির দৃশ্যমান বিরক্তি এবং পুরোনো অল-স্টার বিতর্ক- দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




















