ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ছয় মাসে জ্বালানি যাচ্ছে তলানিতে

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন- সব মিলিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, পরিবহন, সার উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সংকট সামাল দিতে বেশি দামে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হয়েছে। বেড়েছে ভর্তুকির চাপ, বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে সরবরাহ সংকটের সঙ্গে মানুষের বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষও বেড়েছে, যা সরকারকে ফেলেছে নতুন ঝুঁকিতে।

এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এলএনজি পরিবহন এখনও প্রায় বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের পক্ষে এলএনজি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতার এনার্জি জানিয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশকে যে এলএনজি সরবরাহ করার কথা তাদের, তাতে সেপ্টেম্বরের পরও বিঘ্ন ঘটবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও খোলাবাজার— এ দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক বা দুটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।

ইউরো নিউজের সংবাদে বলা হয়েছে, কাতার এনার্জির সর্বশেষ যেসব চালান বাতিল হয়েছে, সেগুলোর সময়সীমা নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা এরই মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ ভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার শুরু করছে। আবার কেউ গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এডিসনের সঙ্গে কাতার এনার্জির চুক্তির আওতায় এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯। এসব চালানে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কথা ছিল।

এডিসন জানিয়েছে, এর মধ্যে বাতিল হওয়া ২১টি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা তারা করেছে। এসব চালানে প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস ছিল। ফলে গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কাতার এনার্জি মার্চে প্রথম অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে প্রতি মাসে মেয়াদ বাড়ানো হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নতুন এলএনজি রফতানি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগের মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সোর্স: সময়ের আলো

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ বার পড়া হয়েছে

সরকারের ছয় মাসে জ্বালানি যাচ্ছে তলানিতে

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন- সব মিলিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, পরিবহন, সার উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সংকট সামাল দিতে বেশি দামে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হয়েছে। বেড়েছে ভর্তুকির চাপ, বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে সরবরাহ সংকটের সঙ্গে মানুষের বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষও বেড়েছে, যা সরকারকে ফেলেছে নতুন ঝুঁকিতে।

এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এলএনজি পরিবহন এখনও প্রায় বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের পক্ষে এলএনজি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতার এনার্জি জানিয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশকে যে এলএনজি সরবরাহ করার কথা তাদের, তাতে সেপ্টেম্বরের পরও বিঘ্ন ঘটবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও খোলাবাজার— এ দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক বা দুটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।

ইউরো নিউজের সংবাদে বলা হয়েছে, কাতার এনার্জির সর্বশেষ যেসব চালান বাতিল হয়েছে, সেগুলোর সময়সীমা নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা এরই মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ ভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার শুরু করছে। আবার কেউ গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এডিসনের সঙ্গে কাতার এনার্জির চুক্তির আওতায় এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯। এসব চালানে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কথা ছিল।

এডিসন জানিয়েছে, এর মধ্যে বাতিল হওয়া ২১টি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা তারা করেছে। এসব চালানে প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস ছিল। ফলে গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কাতার এনার্জি মার্চে প্রথম অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে প্রতি মাসে মেয়াদ বাড়ানো হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নতুন এলএনজি রফতানি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগের মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সোর্স: সময়ের আলো