বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে হাজারো মানুষ
সিলেটের বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ৩০তম নৌকাবাইচ দেখতে জড়ো হয়েছেন হাজারো জনতা। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই নদীর দুই পাড় কানায় কানায় ভরে যায়।
উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারের বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। নৌকাবাইচ দেখতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ মোতায়েন করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে আমরা নৌকাবাইচ সফলভাবে আয়োজন করেছি। সবার সহযোগিতায় এটি সম্পন্ন হবে এবং এ আয়োজনে উদ্রবাদীরা যে বিবাদ সৃষ্টির পায়তারা করেছে সেটির কবর রচিত হলো।
সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন বলেন, বাংলার ঐতিহ্য উপভোগ করতে লাখো জনতার উপস্থিতি বলে এ অঞ্চলে শান্তির ধর্ম ব্যবহার করে কেউ অশান্তি করে ঠিকতে পারবে না।
ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ দেখতে দুই জেলার মানুষ সোনাই নদীর দুই তীরে জড়ো হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এমরান চৌধুরীসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা আসবেন। সব কিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।
গত ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) নৌকাবাইচ বন্দের দাবিতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে প্রচারণা চালালে পরিস্থিতি জটিল হয়। ২১ আগস্ট (শুক্রবার) দিবাগত রাতে দৈনিক সমকালে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধ করার দাবি ‘তৌহিদী জনতার’- শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এ নিয়ে শনিবার রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে নৌকাবাইচের পক্ষ-বিপক্ষের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক করেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে অবশ্য পোস্টারটি সরিয়ে নেন এর প্রচারকারী যুবক মাসুম বিন নুর উদ্দিন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শনিবারের সভায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পোস্টারের প্রচারকারী মাসুম বিন নুর উদ্দিন বলেন, স্থানীয় মুরব্বি, মাওলানা ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তিনি পোস্টারটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। শনিবার দুপুরে সেটি সরিয়ে নিয়েছেন।
নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ হলে এলাকার ক্ষতি হয়, কৃষকদের ফসলহানি হয় এবং নদীপাড়ের বাসিন্দারা ভাঙনের শিকার হন। এসব কারণেই তারা নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতি বা ঈমানি দায়িত্ববোধের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা- জানতে চাইলে মাসুম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। মাওলানা আব্দুল হক, হাফিজ শিব্বির আহমদ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী হোসেন আহমদ তাকে পোস্টারটি প্রকাশ করতে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নৌকাবাইচ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অংশ। এর সঙ্গে ধর্মীয় কোনো বিধিনিষেধ নেই। অতীতেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন করেছেন এবং স্থানীয় মানুষ এতে অংশ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেছেন।




















