ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

নিজস্ব সংবাদ :

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

 

আজ (৩০ চৈত্র) বাংলা বছরের শেষ দিন, চৈত্র সংক্রান্তি। পুরনো বছরের সব ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালি। বিদায় ও আগমনের এই সন্ধিক্ষণ তাই একাধারে আবেগ, ঐতিহ্য ও নবজাগরণের প্রতীক।

ঋতুচক্রের অনিবার্য ধারায় চৈত্রের প্রখরতা যেন বিদায়েরই বার্তা বহন করে।

শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনির সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আগমনী সুর। চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার এক প্রতীকী মুহূর্ত।

বাংলার গ্রামাঞ্চলে এদিনের আবহ আরো প্রাণবন্ত। পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি, ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ১৪ শাকের পদ বা ছাতু খাওয়ার ঐতিহ্য— সবই নতুন সূচনার প্রতীক।

স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনও এদিনের খাদ্যাভ্যাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ। শিবপূজা, ব্রত পালন ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি পালন করেন। অন্যদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তিন দিনব্যাপী উৎসবের মাধ্যমে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে, যা দেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সময়ের সঙ্গে নগরজীবনে রূপ বদলালেও গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য এখনো বহমান। মেলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, বায়োস্কোপসহ নানা আয়োজন এই দিনকে করে তোলে উৎসবমুখর। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে এক অনন্য দিন যেখানে বিদায়ের বেদনার সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আশাবাদ। সময়ের স্রোত বয়ে চলে, বছর বদলায়, কিন্তু এই ঐতিহ্য রয়ে যায় চিরন্তন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১১:২২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
২০ বার পড়া হয়েছে

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

আপডেট সময় ১১:২২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

 

আজ (৩০ চৈত্র) বাংলা বছরের শেষ দিন, চৈত্র সংক্রান্তি। পুরনো বছরের সব ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালি। বিদায় ও আগমনের এই সন্ধিক্ষণ তাই একাধারে আবেগ, ঐতিহ্য ও নবজাগরণের প্রতীক।

ঋতুচক্রের অনিবার্য ধারায় চৈত্রের প্রখরতা যেন বিদায়েরই বার্তা বহন করে।

শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনির সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আগমনী সুর। চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার এক প্রতীকী মুহূর্ত।

বাংলার গ্রামাঞ্চলে এদিনের আবহ আরো প্রাণবন্ত। পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি, ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ১৪ শাকের পদ বা ছাতু খাওয়ার ঐতিহ্য— সবই নতুন সূচনার প্রতীক।

স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনও এদিনের খাদ্যাভ্যাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ। শিবপূজা, ব্রত পালন ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি পালন করেন। অন্যদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তিন দিনব্যাপী উৎসবের মাধ্যমে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে, যা দেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সময়ের সঙ্গে নগরজীবনে রূপ বদলালেও গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য এখনো বহমান। মেলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, বায়োস্কোপসহ নানা আয়োজন এই দিনকে করে তোলে উৎসবমুখর। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে এক অনন্য দিন যেখানে বিদায়ের বেদনার সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আশাবাদ। সময়ের স্রোত বয়ে চলে, বছর বদলায়, কিন্তু এই ঐতিহ্য রয়ে যায় চিরন্তন।