ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
এক্সে জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিবি কিছু কিছু প্রার্থী ভোট চান না, শুধু আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন: মির্জা আব্বাস জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ আরো ১৯ জনকে বহিষ্কার কোনো মার্কাকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায় না: মির্জা ফখরুল যুবকদের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স দ্বিগুণ করা হবে: আসিফ মাহমুদ ‘আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকে জামায়াত ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায়’ ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত: ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

চবিতে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক আটক

নিজস্ব সংবাদ :

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আটক করেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।

জানা যায়, আওয়ামীপন্থি এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ‘গণহত্যা’কে সমর্থন এবং ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।
এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করতে এগিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আইন বিভাগের সামনের পথ ব্যবহার না করে পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে পালানোর সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে ফেলেন।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন মামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পালাতে গিয়ে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।

আটকের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, তোমরা দেখো, আমি কোনো মৌন মিছিলে বের হইনি।

যদি এটা কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে স্যারকে ডাকো, আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি বের হইনি।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন সাবেক বিচারক এবং আইনের শিক্ষক। তোমরা প্রমাণসহ বলো—আমি জুলাই আন্দোলনে কোথাও বের হয়েছি কিনা। স্যাররা দেখুন, আমি কোথাও বের হইনি। আমি মৌন মিছিলও করিনি, কিছুই করিনি। তাহলে যেভাবে বলা হচ্ছে, আমি স্টুডেন্টদের কীভাবে বহিষ্কার করব? আমি কি বোর্ড অব রেসিডেন্সের মেম্বার ছিলাম? স্যারকে জিজ্ঞেস করুন—মেম্বার তো পদাধিকার বলে হয়। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
৩৫ বার পড়া হয়েছে

চবিতে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক আটক

আপডেট সময় ০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আটক করেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।

জানা যায়, আওয়ামীপন্থি এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ‘গণহত্যা’কে সমর্থন এবং ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।
এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করতে এগিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আইন বিভাগের সামনের পথ ব্যবহার না করে পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে পালানোর সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে ফেলেন।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন মামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পালাতে গিয়ে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।

আটকের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, তোমরা দেখো, আমি কোনো মৌন মিছিলে বের হইনি।

যদি এটা কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে স্যারকে ডাকো, আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি বের হইনি।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন সাবেক বিচারক এবং আইনের শিক্ষক। তোমরা প্রমাণসহ বলো—আমি জুলাই আন্দোলনে কোথাও বের হয়েছি কিনা। স্যাররা দেখুন, আমি কোথাও বের হইনি। আমি মৌন মিছিলও করিনি, কিছুই করিনি। তাহলে যেভাবে বলা হচ্ছে, আমি স্টুডেন্টদের কীভাবে বহিষ্কার করব? আমি কি বোর্ড অব রেসিডেন্সের মেম্বার ছিলাম? স্যারকে জিজ্ঞেস করুন—মেম্বার তো পদাধিকার বলে হয়। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।