ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
এক্সে জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিবি কিছু কিছু প্রার্থী ভোট চান না, শুধু আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন: মির্জা আব্বাস জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ আরো ১৯ জনকে বহিষ্কার কোনো মার্কাকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায় না: মির্জা ফখরুল যুবকদের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স দ্বিগুণ করা হবে: আসিফ মাহমুদ ‘আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকে জামায়াত ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায়’ ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত: ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানের বৈঠক

নিজস্ব সংবাদ :

 

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে ইসলামাবাদে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বৈঠকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বুনিয়াদি থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্স পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো জানান, সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ করা হবে এবং এর সঙ্গে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং তাদের অপারেশনাল দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরনো বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহায়তা চান।

এ ছাড়া জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনাও পরিদর্শন করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে এনেছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারি গড়ার অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানগুলো ওজনে তুলনামূলকভাবে হালকা এবং দিন-রাতে ও সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলা চালাতে সক্ষম। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) ও চীনের চেঙডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।

সামরিক পরিভাষায় জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানকে ‘মাল্টি-রোল ফাইটার জেট’ বলা হয়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, মাটির খুব কাছাকাছি নেমে বোমাবর্ষণ করা, প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আকাশে লড়াই, শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে বিপক্ষের ঘাঁটি এবং সমরসজ্জার নির্ভুল খবর নিয়ে আসা এই সব কাজই করতে পারে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
৩২ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানের বৈঠক

আপডেট সময় ১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে ইসলামাবাদে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বৈঠকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বুনিয়াদি থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্স পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো জানান, সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ করা হবে এবং এর সঙ্গে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং তাদের অপারেশনাল দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরনো বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহায়তা চান।

এ ছাড়া জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনাও পরিদর্শন করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে এনেছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারি গড়ার অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানগুলো ওজনে তুলনামূলকভাবে হালকা এবং দিন-রাতে ও সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলা চালাতে সক্ষম। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) ও চীনের চেঙডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।

সামরিক পরিভাষায় জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানকে ‘মাল্টি-রোল ফাইটার জেট’ বলা হয়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, মাটির খুব কাছাকাছি নেমে বোমাবর্ষণ করা, প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আকাশে লড়াই, শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে বিপক্ষের ঘাঁটি এবং সমরসজ্জার নির্ভুল খবর নিয়ে আসা এই সব কাজই করতে পারে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান।