ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :

ধস্তাধস্তি করে আলোচিত সেই শিক্ষক দম্পতিকে দুই প্রান্তে বদলি

নিজস্ব সংবাদ :

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনায় আলোচনায় আসা শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রথমে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। এবার তার স্বামী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকেও বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বদলির আদেশ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তার স্বামী প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উত্তরের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বদলির আদেশ দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তি হয়। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

প্রায় ১৪ বছর ধরে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুন আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ একপর্যায়ে কর্মস্থলেও ছড়িয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে তাদের প্রকাশ্যে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন বলেন, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকেও কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১০:৪০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

ধস্তাধস্তি করে আলোচিত সেই শিক্ষক দম্পতিকে দুই প্রান্তে বদলি

আপডেট সময় ১০:৪০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনায় আলোচনায় আসা শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রথমে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। এবার তার স্বামী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকেও বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বদলির আদেশ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তার স্বামী প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উত্তরের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বদলির আদেশ দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তি হয়। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

প্রায় ১৪ বছর ধরে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুন আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ একপর্যায়ে কর্মস্থলেও ছড়িয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে তাদের প্রকাশ্যে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন বলেন, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকেও কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।