কাল থেকে হবিগঞ্জ সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া মৌলভীবাজারগামী বাস আটকে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘটের সময় হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণসহ দূরপাল্লার সব যানবাহন বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রোডে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের পরিবহন। কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে হঠাৎ মৌলভীবাজার জেলার মালিক-শ্রমিকরা তাদের বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার ফলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি.কে. গউছের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় এবং হবিগঞ্জের বাসগুলো আগের মতো চলাচল করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ১০ মে কোনো প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই আগের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা শেরপুর নামক স্থানে হবিগঞ্জের বাস আটক করে। ফলে উভয় জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে হুইপ জি.কে. গউছ এক সভা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হাসান জীবন, আব্দুল মালেক, নাসের রহমান ও এমরান আহমেদ।
এ ছাড়া ওই সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট মালিক-শ্রমিক সংঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রোডে যথারীতি আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গল নামক স্থানে কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
তবে ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হঠাৎ হবিগঞ্জের ২২টি গাড়ি আটকে রাখে। যে কারণে ওই রুটে আবারও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কমিটির মঝোতা বৈঠকে বিষটি সুরাহা করা হয়। তবে একই বছর ২৪ অক্টোবর এই দ্বন্দ্ব নতুন করে সামনে আসে। যার জের ধরে আসে ১ অক্টোবরের ধর্মঘটের ডাক।










