ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

নিজস্ব সংবাদ :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে এক অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপন্সিবিলিটিজ’ নামের এই নীতিগত চুক্তিটিকে ট্রাম্প একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতাযুক্ত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ উপলক্ষে তিনি বলেন, “এটি এক অর্থে প্রায় সংবিধানের মতোই, এবং বিশ্বের সব বড় বড় ব্যক্তি এতে স্বাক্ষর করেছেন, এমনকি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও এতে সই করেছি। এটি সত্যি এক ধরনের সুরক্ষাকবচ।” তিনি জানান, এই ব্যবস্থার ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তৈরি পণ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ‘স্বনিয়ন্ত্রণ’ বা আত্ম-তদারকির সুযোগ পাবে।

পাশাপাশি, ট্রাম্প একটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যার মাধ্যমে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) নামটি পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘেও একই ধরনের একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নতুন জারি করা এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আদেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে নির্বাহী শাখার অধীনে থাকা সমস্ত বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক চিঠিপত্র, পাবলিক যোগাযোগ, নীতি নির্ধারণী দলিল এবং অন্যান্য সমস্ত নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ পরিভাষাটি আর ব্যবহার বা স্বীকৃত হবে না।”

তবে ট্রাম্প এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বললেও বিস্তারিত নথিতে দেখা যাচ্ছে এতে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা সরকারি প্রয়োগকারী ব্যবস্থা নেই। বরং এতে চার স্তরের অভ্যন্তরীণ নজরদারি, অভ্যন্তরীণ দলকে সক্ষম করা, বহিরাগত অডিটর নিয়োগ এবং একটি স্বাধীন পর্যালোচনা বোর্ড গঠনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূলত কোম্পানিগুলোকে নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়।

হোয়াইট হাউসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এটি কেবল একটি সূচনা এবং এমন একটি সমঝোতা যেখানে সমগ্র প্রযুক্তি শিল্প একমত হতে পেরেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে এক অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপন্সিবিলিটিজ’ নামের এই নীতিগত চুক্তিটিকে ট্রাম্প একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতাযুক্ত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ উপলক্ষে তিনি বলেন, “এটি এক অর্থে প্রায় সংবিধানের মতোই, এবং বিশ্বের সব বড় বড় ব্যক্তি এতে স্বাক্ষর করেছেন, এমনকি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও এতে সই করেছি। এটি সত্যি এক ধরনের সুরক্ষাকবচ।” তিনি জানান, এই ব্যবস্থার ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তৈরি পণ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ‘স্বনিয়ন্ত্রণ’ বা আত্ম-তদারকির সুযোগ পাবে।

পাশাপাশি, ট্রাম্প একটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যার মাধ্যমে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) নামটি পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘেও একই ধরনের একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নতুন জারি করা এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আদেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে নির্বাহী শাখার অধীনে থাকা সমস্ত বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক চিঠিপত্র, পাবলিক যোগাযোগ, নীতি নির্ধারণী দলিল এবং অন্যান্য সমস্ত নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ পরিভাষাটি আর ব্যবহার বা স্বীকৃত হবে না।”

তবে ট্রাম্প এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বললেও বিস্তারিত নথিতে দেখা যাচ্ছে এতে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা সরকারি প্রয়োগকারী ব্যবস্থা নেই। বরং এতে চার স্তরের অভ্যন্তরীণ নজরদারি, অভ্যন্তরীণ দলকে সক্ষম করা, বহিরাগত অডিটর নিয়োগ এবং একটি স্বাধীন পর্যালোচনা বোর্ড গঠনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূলত কোম্পানিগুলোকে নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়।

হোয়াইট হাউসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এটি কেবল একটি সূচনা এবং এমন একটি সমঝোতা যেখানে সমগ্র প্রযুক্তি শিল্প একমত হতে পেরেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।”