ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতে মারা যান স্বামী, ভোরে রেললাইনে মিলল স্ত্রীর মরদেহ

নিজস্ব সংবাদ :

রাতে মারা যান স্বামী, ভোরে রেললাইনে মিলল স্ত্রীর মরদেহ

রাতেই মারা গেছেন স্বামী। মরদেহ সামনে নিয়ে রাতভর কান্নাকাটি করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু ভোরে বাড়ির পাশে রেললাইনে পাওয়া গেছে সেই স্ত্রীর মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই এমনটা করেছেন তিনি।

নিহত হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন এবং নিত্য বালাও নিয়মিত স্বামীর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাশাপাশি চিতায় তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হরেন্দ্রনাথ বর্মণ।

স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর লাশের পাশে বসে অনবরত কাঁদছিলেন নিত্য বালা। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার ভোরের দিকে পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি।

দীর্ঘক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরে সকালে আত্মীয়রা রেললাইনের দিকে হাঁটতে গেলে নিত্য বালার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে শুয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহত নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারা রাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। মা বাবাকে বড্ড ভালোবাসতেন, এই শোক সইতে না পেরে ভোরে নিখোঁজ হন। পরে রেললাইনে আমরা মায়ের মরদেহ পাই। প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কাকিমার (নিত্য বালা) কাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে এসেছেন। কাকার বিয়োগ মেনে নিতে না পেরেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

রাতে মারা যান স্বামী, ভোরে রেললাইনে মিলল স্ত্রীর মরদেহ

আপডেট সময় ০৬:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতেই মারা গেছেন স্বামী। মরদেহ সামনে নিয়ে রাতভর কান্নাকাটি করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু ভোরে বাড়ির পাশে রেললাইনে পাওয়া গেছে সেই স্ত্রীর মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই এমনটা করেছেন তিনি।

নিহত হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন এবং নিত্য বালাও নিয়মিত স্বামীর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাশাপাশি চিতায় তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হরেন্দ্রনাথ বর্মণ।

স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর লাশের পাশে বসে অনবরত কাঁদছিলেন নিত্য বালা। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার ভোরের দিকে পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি।

দীর্ঘক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরে সকালে আত্মীয়রা রেললাইনের দিকে হাঁটতে গেলে নিত্য বালার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে শুয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহত নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারা রাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। মা বাবাকে বড্ড ভালোবাসতেন, এই শোক সইতে না পেরে ভোরে নিখোঁজ হন। পরে রেললাইনে আমরা মায়ের মরদেহ পাই। প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কাকিমার (নিত্য বালা) কাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে এসেছেন। কাকার বিয়োগ মেনে নিতে না পেরেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন।