নারী লিয়াজোঁ অফিসারের সঙ্গে অশোভন আচরণ
এক বছরের শাস্তি নজির মল্লিকের
চীনের সানিয়া শহরে গত ২২ থেকে ৩০ এপ্রিলে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান বিচ গেমসের ষষ্ঠ আসরের খেলা। এই গেমসে অ্যাথলেটিক্স সহ ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নারী কাবাডি দল আসরে ব্রোঞ্জপদক জিতলেও অ্যাথলেটিক্স দলের ম্যানেজার নজির আহমেদ মল্লিক জড়ান অনৈতিক কর্মকান্ডে । তার বিরুদ্ধে গেমসে কর্মরত এক নারী লিঁয়াজো অফিসার অশোভন আচরণের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি নজির মল্লিককে এক বছরের শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশরাফ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের একটি সেইফ গার্ডিং কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিষয়টি তিনি পর্যালোচনা করে আমার কাছে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির আলোকে আগামী এক বছর কোনো গেমসে নজির মল্লিককে না পাঠানো এবং একই সঙ্গে নারী দলের ক্যাম্প ও নারী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাকে গেমসে না পাঠানোর বিষয়টি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সেইফগার্ডি কমিটি গঠন হয় গত ৫ মে। চার সদস্যের এই কমিটির আহবায়ক করা হয় সাবেক অ্যাথলেট শর্মিষ্ঠা রায়কে। সদস্য সচিব করা হয় ড. ওয়াজিদা বানুকে। যিনি সেইফ গার্ডিং অফিসার হিসেবে মূল দায়িত্ব পালন করছেন। আর কমিটির দুই সদস্য হলেন- ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য মজিবুর রহমান মল্লিক এবং আরেক নির্বাহী সদস্য ও দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে। ফুটবল, ক্রিকেটের মতো শীর্ষ ফেডারেশনে সেফগার্ডিং কমিটি সেভাবে সক্রিয় নয়। সেখানে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাকের উদ্যোগেই মূলত এটি হয়েছে। চীনের গেমস কর্তৃপক্ষ বিওএকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা চিঠির মাধ্যমে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতিকে তা জানায়। অভিযুক্ত নজির আহমেদ মল্লিক (নজির মল্লিক) ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সেইফ গার্ডি কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান মল্লিকের ছোট ভাই। এরপরও একজন বিদেশী নারী লিঁয়াজো অফিসারের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সেইফ গার্ডিং অফিসারের সুপারিশের ভিত্তিতে ফেডারেশন সভাপতি সেটা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে এ রকম অভিযোগ নানা সময়ে ধামাচাপা পড়েছে। তবে একজন বিদেশি নাগরিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাস্তির ঘটনা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন গত ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আয়োজন করেছিল ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে তিন দিন ব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ফেডারেশনের সদস্য নজির মল্লিক প্রতিদিনই মাঠে উপস্থিত ছিলেন। অথচ তার আগেই ১৩ মে নজিরকে এক বছরের বহিস্কারের সুপারিশ করে ফেডারেশন সভাপতি চিঠি পাঠিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদককে। একজন বহিস্কৃত সংগঠক জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের অনেক ইভেন্টে পুরস্কার প্রদান করেন। যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে সমালোচনা অব্যহত রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে যে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন ক্ষমতাবলে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের খেলা চলাকালে মাঠে উপস্থিত ছিলেন? এ নিয়ে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন,‘জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও অংশগ্রহণ করে থাকে। তাকে নারী দলের ক্যাম্প এবং নারী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অ্যাথলেটিক্সের অন্য কর্মকান্ডে তার অংশগ্রহণে কোনো সমস্যা নেই।’ সাধারণ সম্পাদকের এমন কথায় দায়িত্বহীনতার পরিচয় পাওয়া যায় বলে মনে করছেন সাবেক অ্যাথলেট ও সংগঠকরা।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, এই শাহ আলম তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকাকালে ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর সাধারণ সভা কর্তৃক বহিস্কার হয়েছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করে।





















