ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদ :

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনসিপির।

আনোয়ার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক।

রবিবার দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে রায়পুর থানায় এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা বাদী যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝিকেও মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন।

তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা বাদী রুহুল আমিনদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকরমূলক কথা বলে আনোয়ার তা ফেসবুকে প্রচার করেন।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন জানান, প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘আনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনোয়ারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

জেলা জজ আদালতের সহকারি সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, ‘আনোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারে সাইবার সুরক্ষা এবং বাদীসহ স্বাক্ষীদের মারধরে দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
৪৭ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৬:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনসিপির।

আনোয়ার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক।

রবিবার দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে রায়পুর থানায় এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা বাদী যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝিকেও মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন।

তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা বাদী রুহুল আমিনদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকরমূলক কথা বলে আনোয়ার তা ফেসবুকে প্রচার করেন।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন জানান, প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘আনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনোয়ারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

জেলা জজ আদালতের সহকারি সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, ‘আনোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারে সাইবার সুরক্ষা এবং বাদীসহ স্বাক্ষীদের মারধরে দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’