ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :

এক আসনে বিএনপির দুই মুখ, হবিগঞ্জে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

নিজস্ব সংবাদ :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। একই রাজনৈতিক আদর্শের দুই প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই এই আসনকে জেলার অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অর্থনীতিবিদ ও বিএনপি নেতা ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে শেখ সুজাত মিয়ার রয়েছে শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি ও প্রভাব এখনো বিদ্যমান। অন্যদিকে ড. রেজা কিবরিয়া তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই রাজনৈতিক ঘরানার দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। তবে সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, তাঁরা ব্যক্তি নয়, বরং দল ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ভোট দেবেন।

এদিকে দুই প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করেছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার—এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তারা ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে একই আসনে দুই বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী মাঠে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন সিদ্ধান্ত নেন, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
৮৩ বার পড়া হয়েছে

এক আসনে বিএনপির দুই মুখ, হবিগঞ্জে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

আপডেট সময় ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। একই রাজনৈতিক আদর্শের দুই প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই এই আসনকে জেলার অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অর্থনীতিবিদ ও বিএনপি নেতা ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে শেখ সুজাত মিয়ার রয়েছে শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি ও প্রভাব এখনো বিদ্যমান। অন্যদিকে ড. রেজা কিবরিয়া তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই রাজনৈতিক ঘরানার দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। তবে সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, তাঁরা ব্যক্তি নয়, বরং দল ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ভোট দেবেন।

এদিকে দুই প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করেছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার—এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তারা ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে একই আসনে দুই বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী মাঠে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন সিদ্ধান্ত নেন, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।